সুনামগঞ্জ , শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬ , ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অন্য কোনও ঘটনার তুলনা হয় না : মির্জা ফখরুল শিশুর হাতে স্মার্টফোন : আশীর্বাদ না অভিশাপ? হাওরের জন্য ৫০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের দাবি টাঙ্গুয়ার হাওরে উজাড় হচ্ছে হিজল-করচ বাগ সাম্রাজ্যবাদী ও দেশবিরোধী সব চুক্তি বাতিলের দাবি “সমন্বয়কদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন হান্নান মাসউদ” গুপ্ত ছিলাম, বাইরে যাইনি, ভবিষ্যতেও পালাবো না : জামায়াত আমির প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০২৬ জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ হলেন যাঁরা বিদ্যুতের দাম বাড়লো দুই বছরে নিঃস্ব হয়ে ফিরেছেন ২১৫ জন তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১৪৮৭ কোটি টাকা মা-বাবার পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত তোফায়েল আহমেদ গণমাধ্যম, পুলিশ ও প্রবাসীদের উদ্যোগে অসহায় সাজু মিয়ার মুখে হাসি হাওরপাড়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস যাত্রী ওঠানো নিয়ে সংঘর্ষে আহত ১২, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাঙচুর ১০টি পৌরসভার পানি সরবরাহ লাইনে ত্রুটি, দুর্ভোগে ৬ শতাধিক গ্রাহক স্থানীয় সরকার নির্বাচন : আগস্টের শেষে তফসিল, অক্টোবরে ভোটের চিন্তা হাওরে কৃষকের নিরানন্দ ঈদ তোফায়েল আহমেদ আর নেই আমার রাজনীতির মূল লক্ষ্য জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা : এমপি কামরুল

মাদকমুক্ত শহরের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ এখনই প্রয়োজন

  • আপলোড সময় : ৩০-০৬-২০২৫ ১২:৩৭:৩৬ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ৩০-০৬-২০২৫ ১২:৩৭:৩৬ পূর্বাহ্ন
মাদকমুক্ত শহরের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ এখনই প্রয়োজন
সুনামগঞ্জ শহরের বিভিন্ন এলাকায় মাদকের ভয়াল ছোবল দিন দিন গ্রাস করছে আমাদের সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে। বিশেষ করে উকিলপাড়ার সুরমা নদী তীরবর্তী ‘বেকারিঘাট’ এলাকা, তেঘরিয়া, আরপিননগর, বড়পাড়া, সুলতানপুর, ষোলঘর, ধোপাখালি, নবীনগরসহ অন্তত এক ডজন এলাকায় মাদক কারবারিদের বিচরণ এবং বিস্তার দেখে আমরা চরমভাবে উদ্বিগ্ন। সন্ধ্যা নামতেই এইসব এলাকায় বহিরাগত মাদকসেবীদের আনাগোনা বেড়ে যায়, চলছে প্রকাশ্য ও গোপনভাবে ইয়াবা, গাঁজা, মদসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্যের বিকিকিনি। অথচ এলাকাবাসী চিহ্নিত এসব মাদক কারবারিদের উপস্থিতি সম্পর্কে অবগত হলেও ভয়ের কারণে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না।
এখন প্রশ্ন হলো- এতসব তথ্য স্থানীয় মানুষ জানে, সংবাদকর্মীরা জানেন, তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানেন না কেন? নিশ্চয়ই জানেন। তাহলে কেন এইসব মাদকচক্র এখনো সক্রিয়? কেন তাদের আড়ালে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে পড়ছে শহরের আনাচে-কানাচে?
আমরা চাই, কোনো অভিযান যেন লোক দেখানো কর্মসূচিতে পরিণত না হয়। সে বিষয়ে প্রশাসনকে আরও সজাগ ও তৎপর হতে হবে। কারণ একটি সমাজে যখন উঠতি বয়সের তরুণরা মাদকের ছোবলে দিশেহারা হয়ে পড়ে, তখন শুধু পরিবার নয়, গোটা জাতির ভবিষ্যৎ বিপন্ন হয়।
মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ এখন আর কেবল আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাজ নয়, বরং এটি হওয়া উচিত সমাজের সম্মিলিত লড়াই। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ইমাম, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে।
অবশ্যই বলতে হবে, এই পরিস্থিতি আর চলতে দেওয়া যায় না। আমাদের সন্তানদের রক্ষা করতে হলে এখনই শক্ত হাতে মাদক ব্যবসা বন্ধে সর্বাত্মক পদক্ষেপ নিতে হবে। জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করে চিহ্নিত মাদক স্পটগুলোতে একযোগে অভিযান চালানো যেতে পারে। একইসাথে প্রয়োজনে সেসব এলাকায় কমিউনিটি পুলিশিং জোরদার করতে হবে, যাতে তথ্য সংগ্রহ ও প্রতিরোধ সহজ হয়।
মাদক সমাজের বিষফোঁড়া। এই বিষ যদি এখনই উপড়ে ফেলা না যায়, তবে তা গোটা সমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেবে। তাই দেরি নয়, মাদকমুক্ত শহর গড়তে এখনই চাই রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রশাসনিক দৃঢ়তা এবং জনসম্পৃক্ততা উদ্যোগ। সুনামগঞ্জবাসী একটি নিরাপদ, সুস্থ ও সচেতন শহর চায় - এই আকাঙ্খাকে বাস্তবে রূপ দিতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আরও কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক ভূমিকা রাখতে হবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স